আন্তর্জাতিকJun 10, 20264 min read

লন্ডনে চীনের মেগা দূতাবাস পরিকল্পনার অফিসে গোপন ক্যামেরা উদ্ধার, গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

লন্ডনে চীনের প্রস্তাবিত মেগা দূতাবাস প্রকল্প নিয়ে কাজ চলা সরকারি ভবনে গোপন ক্যামেরা উদ্ধারের পর নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

শেয়ার করুন:
লন্ডনে চীনের মেগা দূতাবাস পরিকল্পনার অফিসে গোপন ক্যামেরা উদ্ধার, গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কা

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ৮ জুন ২০২৬ তারিখে মস্কোয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য রাষ্ট্রগুলো নতুন সদস্য গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখলেও ভবিষ্যতে এই বিরতি শেষ হলে বাংলাদেশের সদস্যপদের আবেদনকে রাশিয়া আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাবে।

লাভরভ ব্যাখ্যা করেন, মাত্র ২ বছরের মধ্যে ব্রিকসের সদস্য সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়, নীতিগত সামঞ্জস্য এবং নতুন কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। সে কারণেই আপাতত নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে তিনি বাংলাদেশের বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, এশিয়ার একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছে।

বর্তমানে ব্রিকস বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত জোট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জোটটির সদস্য সংখ্যা সম্প্রসারণের পর এর বৈশ্বিক প্রভাব আরও বেড়েছে। রাশিয়ার মতে, এই জোটের সদস্য হওয়ার সুবিধা এখন আরও স্পষ্ট হওয়ায় বিশ্বের বহু দেশ সদস্যপদের জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং আবেদনকারীর সংখ্যা বর্তমান সদস্য সংখ্যার চেয়েও বেশি।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দেশটি ইতোমধ্যেই ব্রিকসের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সদস্য ও অংশীদার। এই ব্যাংকের কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে রাশিয়া সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

ঢাকা–মস্কো বৈঠকে শুধু ব্রিকস নয়, বরং জ্বালানি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতি, ইউরেশীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বহুমুখী শক্তির প্রতিযোগিতার এই সময়ে ব্রিকসের মতো একটি বিকল্প অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজার, আর্থিক সহযোগিতা ও কৌশলগত ভারসাম্য তৈরির সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ পেতে শুধু রাশিয়ার সমর্থন নয়, জোটের অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গেও ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সমঝোতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সম্পর্কিত খবর

ইউক্রেন ল্যাব নিয়ে জৈব অস্ত্র অভিযোগে তীব্র বিতর্ক

ইউক্রেনের মার্কিন অর্থায়িত ল্যাবগুলো নিয়ে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা জৈব অস্ত্র গবেষণার অভিযোগ করেছেন। দাবি অনুযায়ী রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য জৈবিক লক্ষ্যবস্তু তৈরির ইঙ্গিত রয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিতে ৬ বিলিয়ন ডলার ঝুঁকি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার জব্দকৃত ৬ বিলিয়ন ডলার ইরানি সম্পদ মানবিক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত চুক্তি আলোচনায় উৎসাহ দিতে পারে। তবে ইরান এখনো সম্মতি দেয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার অস্ত্র রপ্তানি বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য বদলাচ্ছে

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়া অস্ত্র রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বে নবম স্থানে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় বাজারে এর প্রভাব বাড়ছে।

হরমুজ নির্ভরতা কমাতে আমিরাতের কৌশলগত পদক্ষেপ

সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা শূন্যে নামাতে বন্দর, পাইপলাইন ও রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে।