বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ৮ জুন ২০২৬ তারিখে মস্কোয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য রাষ্ট্রগুলো নতুন সদস্য গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখলেও ভবিষ্যতে এই বিরতি শেষ হলে বাংলাদেশের সদস্যপদের আবেদনকে রাশিয়া আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাবে।
লাভরভ ব্যাখ্যা করেন, মাত্র ২ বছরের মধ্যে ব্রিকসের সদস্য সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়, নীতিগত সামঞ্জস্য এবং নতুন কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। সে কারণেই আপাতত নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে তিনি বাংলাদেশের বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, এশিয়ার একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছে।
বর্তমানে ব্রিকস বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত জোট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জোটটির সদস্য সংখ্যা সম্প্রসারণের পর এর বৈশ্বিক প্রভাব আরও বেড়েছে। রাশিয়ার মতে, এই জোটের সদস্য হওয়ার সুবিধা এখন আরও স্পষ্ট হওয়ায় বিশ্বের বহু দেশ সদস্যপদের জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং আবেদনকারীর সংখ্যা বর্তমান সদস্য সংখ্যার চেয়েও বেশি।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দেশটি ইতোমধ্যেই ব্রিকসের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সদস্য ও অংশীদার। এই ব্যাংকের কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে রাশিয়া সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
ঢাকা–মস্কো বৈঠকে শুধু ব্রিকস নয়, বরং জ্বালানি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতি, ইউরেশীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বহুমুখী শক্তির প্রতিযোগিতার এই সময়ে ব্রিকসের মতো একটি বিকল্প অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজার, আর্থিক সহযোগিতা ও কৌশলগত ভারসাম্য তৈরির সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ পেতে শুধু রাশিয়ার সমর্থন নয়, জোটের অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গেও ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সমঝোতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
