অর্থনীতিMay 14, 20264 min read

বিশ্ব বাণিজ্যের কৌশলগত রুটে চীনের শক্ত অবস্থান, সফরের আগেই চাপে ট্রাম্প

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|অর্থনীতি

বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ও বন্দর অবকাঠামোয় চীনের প্রভাব বাড়ছে। ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরের আগে বিষয়টি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শেয়ার করুন:
বিশ্ব বাণিজ্যের কৌশলগত রুটে চীনের শক্ত অবস্থান, সফরের আগেই চাপে ট্রাম্প

বিশ্ব বাণিজ্য ও সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরকে ঘিরে নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব বাণিজ্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোতে চীনের শক্ত অবস্থান এখন ওয়াশিংটনের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত এক দশকে বেইজিং বিশ্বের বিভিন্ন কৌশলগত সমুদ্রবন্দর, লজিস্টিক কেন্দ্র ও শিপিং অবকাঠামোয় ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে মালাক্কা প্রণালী, হরমুজ, সুয়েজ এবং ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে চীনের প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রিসের পিরেয়াস বন্দরের প্রধান কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় চীনা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই বন্দর বর্তমানে ইউরোপ ও এশিয়ার বাণিজ্য সংযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের এক শতাধিক বিদেশি বন্দরে চীনা কোম্পানিগুলোর অংশীদারিত্ব রয়েছে। এসব বন্দরের অনেকগুলোই বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটের কাছাকাছি অবস্থিত। শুধু বন্দর নয়, জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত অধিকাংশ ক্রেন এবং বিশ্বের প্রায় সব শিপিং কনটেইনার উৎপাদনেও চীনের আধিপত্য রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার বড় একটি অংশ এখন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চীনের প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্লেষকদের মতে, পানামা খাল ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান উল্টো নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। চীনা-সংশ্লিষ্ট টার্মিনালকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখানোর পর পশ্চিমা বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করা হলেও আইনি জটিলতায় তা বাধাগ্রস্ত হয়। একই সময়ে পানামার পতাকাবাহী কিছু জাহাজ আটকের ঘটনায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এসব ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে আন্তর্জাতিক শিপিং ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় চীনকে উপেক্ষা করা এখন প্রায় অসম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি গভীর আন্তঃনির্ভরশীলতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই বন্দর, জ্বালানি রুট ও সরবরাহ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত ক্ষমতার বড় উৎস হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরে তাই শুধু বাণিজ্য ঘাটতি নয়, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং বেইজিংয়ের বাড়তে থাকা প্রভাবও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।