চীনের রপ্তানি খাতে ২০২৬ সালের মে মাসে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেও দেশটির অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বেইজিং থেকে প্রকাশিত শুল্ক প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে চীনের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, তবে বাস্তবে তা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৪.১ শতাংশ, যা ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকেই নির্দেশ করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংশ্লিষ্ট পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি। বিশেষ করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপ, সার্ভার, ডেটা প্রসেসিং যন্ত্রপাতি এবং ক্লাউড কম্পিউটিং অবকাঠামোর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, যার বড় অংশই চীন থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রতিযোগিতা চীনের উৎপাদন ও রপ্তানি খাতকে নতুন গতি দিয়েছে। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর রপ্তানি পণ্যের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হলেও প্রযুক্তি খাতে এর প্রভাব উল্টোভাবে ইতিবাচক হয়েছে। অনেক দেশ তাদের ডেটা সেন্টার, এআই সিস্টেম এবং সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর ফলে চীনের প্রযুক্তি রপ্তানির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে চীনের আমদানি পরিমাণও বেড়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও ভোক্তা বাজারে চাহিদা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বর্তমানে যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, তা সত্ত্বেও প্রযুক্তি ও এআই খাত একটি নতুন প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। চীনের জন্য এটি কেবল রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত সময়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উন্নত দেশের সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা চীনের উৎপাদন ও রপ্তানি কাঠামোকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালের মে মাসের ১৯ শতাংশের বেশি রপ্তানি প্রবৃদ্ধি চীনের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে আগামী মাসগুলোতেও চীনের রপ্তানি খাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বজায় রাখবে। সূত্র অনুযায়ী, এই প্রবৃদ্ধি চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলের সফল বাস্তবায়নের একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
