প্রযুক্তিJun 9, 20264 min read

২.৯৫ লাখ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা নিল চীন, এআই যুদ্ধে আমেরিকাকে টেক্কা দিতে গড়বে ডেটা সেন্টার

প্রযুক্তি ডেস্কপ্রযুক্তি|প্রযুক্তি

চীন আগামী পাঁচ বছরে এআই অবকাঠামো ও ডেটা সেন্টারে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করবে।

শেয়ার করুন:
২.৯৫ লাখ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা নিল চীন, এআই যুদ্ধে আমেরিকাকে টেক্কা দিতে গড়বে ডেটা সেন্টার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে বড় ধরনের কৌশলগত বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়েছে চীন। ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ডেটা সেন্টার ও আন্তঃসংযুক্ত কম্পিউটিং হাব গড়ে তুলতে বেইজিং প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, অর্থাৎ প্রায় ২৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এই বিশাল পরিকল্পনা চীনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানোর একটি অংশ, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে। চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকারী সংস্থা জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের একটি সমন্বিত নীলনকশা তৈরি করছে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনার আওতায় সারা দেশে একটি বৃহৎ, সংযুক্ত ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ডেটা অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হবে।

চীনের নতুন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং মানবসদৃশ রোবট প্রযুক্তিতে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ চীনকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল। পরিকল্পনার বাস্তবায়নে চায়না মোবাইল ও চায়না টেলিকমের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো মূল ভূমিকা পালন করবে, যারা ডেটা সেন্টার পরিচালনা এবং নেটওয়ার্ক সংযোগ নিশ্চিত করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, চীন তাদের এআই চিপ সরবরাহ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে স্থানীয়করণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ব্যবহৃত এআই চিপের অন্তত ৮০ শতাংশ দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে। এই নীতির ফলে হুয়াওয়ে টেকনোলজিসসহ স্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বড় সুবিধা পাবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনভিডিয়া ও এএমডির মতো বৈশ্বিক চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর বাজার অংশীদারিত্ব হ্রাস পেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এআই গবেষণা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীনা সরকার রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নির্মিত ডেটা সেন্টারগুলোতে দেশীয় এআই চিপ ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে, যা স্থানীয় প্রযুক্তি খাতকে শক্তিশালী করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, চীনের এই ডেটা সেন্টার পরিকল্পনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর কাঠামো ও বাস্তবায়ন কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে। চায়না মোবাইল, চায়না টেলিকম এবং জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। সব মিলিয়ে চীনের এই বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা বিশ্ব প্রযুক্তি বাজারে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি করতে পারে, যা আগামী দশকে বৈশ্বিক এআই নেতৃত্বের প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।