আন্তর্জাতিকMay 22, 20263 min read

আফ্রিকায় চীনের অর্থনৈতিক আধিপত্য: ঋণ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে পিছিয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

আফ্রিকায় চীনের ঋণ, জ্বালানি ও অবকাঠামো বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে, আর অনিশ্চিত নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রভাব কমছে।

শেয়ার করুন:
আফ্রিকায় চীনের অর্থনৈতিক আধিপত্য: ঋণ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে পিছিয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

গত দুই দশকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিপুল ঋণ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জ্বালানি খাতে আগ্রাসী বিনিয়োগের মাধ্যমে চীন মহাদেশটিতে নিজেদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু অর্থনৈতিক কার্যক্রম নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত আফ্রিকা নীতি, সীমিত অর্থনৈতিক অঙ্গীকার এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক পরিকল্পনার দুর্বলতার কারণে ওয়াশিংটনের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। ফলে আফ্রিকার অর্থনীতি, জ্বালানি ও কৌশলগত খনিজ সম্পদের ওপর বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার সালের পর থেকে চীন আফ্রিকার বহু দেশে বিপুল পরিমাণ ঋণ দিয়েছে, যার বড় অংশ জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, তেল শোধনাগার, গ্যাস, জলবিদ্যুৎ, সৌরশক্তি এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় চীনা অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত অংশগ্রহণ দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ যেমন তামা, কোবাল্ট ও বক্সাইটে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চীন অবকাঠামোর বিনিময়ে সম্পদ আহরণের নীতি অনুসরণ করছে। এই ব্যবস্থায় রাস্তা, হাসপাতাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প অবকাঠামো নির্মাণের বিনিময়ে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছে।

আফ্রিকার সবচেয়ে বড় চীনা ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাঙ্গোলা, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুদান, ইথিওপিয়া ও জাম্বিয়া। এসব দেশে তেল, বিদ্যুৎ, খনিশিল্প ও পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনেক আফ্রিকান সরকার মনে করে, পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় চীন দ্রুত অর্থায়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে বেশি কার্যকর। তবে সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা ভবিষ্যতে এসব দেশকে অর্থনৈতিকভাবে বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা নীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পষ্ট অনিশ্চয়তা দেখা গেছে। আফ্রিকান দেশগুলোর জন্য দেওয়া বাণিজ্য সুবিধার মেয়াদ স্বল্প সময়ের জন্য বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে অনাগ্রহ আফ্রিকান অর্থনীতিতে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক উপস্থিতি কমাচ্ছে, তখন চীন সেই শূন্যস্থান দ্রুত পূরণ করছে। এর ফলে আফ্রিকার বহু দেশ এখন অবকাঠামো, জ্বালানি ও শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেইজিংকেই প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছে।

পরিশেষে বলা যায়, আফ্রিকায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার আড়ালে চীন কৌশলগত সম্পদ ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে সেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে আফ্রিকার ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই পরিবর্তনের প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

ইউক্রেন ল্যাব নিয়ে জৈব অস্ত্র অভিযোগে তীব্র বিতর্ক

ইউক্রেনের মার্কিন অর্থায়িত ল্যাবগুলো নিয়ে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা জৈব অস্ত্র গবেষণার অভিযোগ করেছেন। দাবি অনুযায়ী রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য জৈবিক লক্ষ্যবস্তু তৈরির ইঙ্গিত রয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিতে ৬ বিলিয়ন ডলার ঝুঁকি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার জব্দকৃত ৬ বিলিয়ন ডলার ইরানি সম্পদ মানবিক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত চুক্তি আলোচনায় উৎসাহ দিতে পারে। তবে ইরান এখনো সম্মতি দেয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার অস্ত্র রপ্তানি বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য বদলাচ্ছে

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়া অস্ত্র রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বে নবম স্থানে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় বাজারে এর প্রভাব বাড়ছে।

হরমুজ নির্ভরতা কমাতে আমিরাতের কৌশলগত পদক্ষেপ

সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা শূন্যে নামাতে বন্দর, পাইপলাইন ও রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে।