জাতীয়Jun 16, 20264 min read

রাজশাহীর সীমান্তে পুশ-ইনের জন্য আনা ২৩ জনকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হলো বিএসএফ।

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

রাজশাহীর চারঘাট সীমান্তে ২৩ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির কঠোর নজরদারি ও স্থানীয় সহযোগিতার মুখে তাদের ভারতেই ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।

শেয়ার করুন:
রাজশাহীর সীমান্তে পুশ-ইনের জন্য আনা ২৩ জনকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হলো বিএসএফ।

রাজশাহীর চারঘাট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ২৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশ-ইনের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির কঠোর নজরদারি, অতিরিক্ত টহল এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতার মুখে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী শেষ পর্যন্ত ওই ২৩ জনকে নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় কর্মকর্তারা। ঘটনাটি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর-রাওথা সীমান্ত এলাকায় ঘটে এবং এটি সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে পুশ-ইনের প্রচেষ্টার আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।**

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৩ জুন ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্তবর্তী কাগমারি চর এলাকায় প্রায় ১৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে ২৩ জনকে দুটি নৌকায় করে পদ্মা নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশের রাজশাহী সীমান্তে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে আগে থেকেই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সতর্ক অবস্থানে থাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং অতিরিক্ত টহল মোতায়েন করায় নৌকাগুলো বাংলাদেশের অংশে প্রবেশ করতে পারেনি। স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাগমারি ও খালিশপুর সীমান্ত শিবিরের তত্ত্বাবধানে ওই ব্যক্তিদের সীমান্ত এলাকায় আনা হয়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিজিবি মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানায়, ফলে সীমান্তজুড়ে জনসচেতনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়।

চারঘাট বিকল্প বিওপির কমান্ডার সুবেদার দেলোয়ার হোসেন জানান, গোপন তথ্য পাওয়ার পর থেকেই সীমান্তে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, কঠোর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার কারণেই পুশ-ইনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কয়েকদিনের অচলাবস্থার পর সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, সীমান্তে অবস্থানরত ২৩ জনকে শেষ পর্যন্ত ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। যদিও এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি, তবে সীমান্ত এলাকায় তাদের আর দেখা না যাওয়ায় বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন ধারণা করছে যে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পঞ্চগড়সহ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিজিবির বাধার মুখে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচয় যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে সীমান্ত অতিক্রমে বাধ্য করার চেষ্টা আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির পরিপন্থী। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। বর্তমানে রাজশাহী সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সম্ভাব্য নতুন কোনো পুশ-ইন প্রচেষ্টা প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।