বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। ৫ জুন অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার তুরস্ককে দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান কর সুবিধা, প্রণোদনা এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা তুর্কি উদ্যোক্তাদের জন্যও উন্মুক্ত রয়েছে। সরকার আশা করছে, এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে তুরস্ক বাংলাদেশের শিল্প ও অবকাঠামো খাতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠবে। সম্ভাব্য বিনিয়োগের জন্য তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প, জাহাজ নির্মাণ, ওষুধ উৎপাদন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, স্মার্ট প্রযুক্তি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল ও নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষা খাতেও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তুরস্কে অধ্যয়নরত প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে আরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। বাংলাদেশ উল্লেখ করেছে যে এই মানবিক সংকটের নয় বছর পূর্ণ হলেও এখনো টেকসই সমাধান সম্ভব হয়নি, তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সমন্বিত ও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর নতুন বাজার ও বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করতে তুরস্কের মতো বৃহৎ অর্থনীতির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে তুরস্কের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্যকে ভিত্তি করে এই বৈঠক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা ও আঙ্কারার এই ঘনিষ্ঠতা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং বহুমাত্রিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থনীতি•Jun 6, 2026•4 min read
তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব বাংলাদেশের।
স্টাফ রিপোর্টার•রিপোর্টার|অর্থনীতি
বাংলাদেশ ও তুরস্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করেছে, যা ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত খবর
পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।
কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ
কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।
গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে
যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।
সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?
ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।