বাংলাদেশ সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের পাসপোর্টে আবারও “ইসরাইল ব্যতীত বিশ্বের সকল দেশের জন্য বৈধ” বাক্যটি পুনর্বহাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশজুড়ে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই নতুন পাসপোর্টে আগের মতো এই নির্দেশনা যুক্ত হতে পারে। এর আগে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার কথা বলে ২০২১ সালে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট থেকে এই বাক্যটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে সে সময়ও সরকার স্পষ্ট করেছিল যে, ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বা রাষ্ট্রীয় অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবুও সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবস্থান বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে সমর্থন করে আসছে এবং ইসরাইলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে গাজাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, মানবিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ফিলিস্তিনপন্থী জনমত আরও জোরালো হয়েছে। ফলে পাসপোর্টে “ইসরাইল ব্যতীত” বাক্যটির পুনর্বহালকে অনেকে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও নৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি প্রতীকী বার্তা। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ দেশের অভ্যন্তরীণ জনমত এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও একটি স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভ্রমণনীতি, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং বৈশ্বিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, পাসপোর্টে এই বাক্য পুনরায় যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জনগণের আবেগ, ইতিহাস এবং পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। অনেকের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দেশনা নয়, বরং রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক পরিচয়ের প্রতীক। সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো না এলেও সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, খুব দ্রুতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি হতে পারে।
