অর্থনীতিJun 17, 20264 min read

৫৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগে দেশে নতুন ৫ টি ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল ।

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|অর্থনীতি

বাংলাদেশে ৫৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ লক্ষ্য নিয়ে ২টি ইপিজেড ও ৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখতে পারে।

শেয়ার করুন:
৫৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগে দেশে নতুন ৫ টি ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল ।

দেশের শিল্পায়নকে রাজধানীকেন্দ্রিক অবস্থান থেকে বের করে আঞ্চলিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার নতুন করে ৫৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ৫টি নতুন শিল্প অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বরিশাল ও লালমনিরহাটে ২টি নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল এবং বরগুনা, পিরোজপুর ও গাজীপুরে ৩টি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনবে।

দক্ষিণাঞ্চলকে নতুন শিল্পকেন্দ্রে রূপ দিতে পদ্মা সেতু ও পায়রা বন্দরের যোগাযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে বরিশাল রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী জনস্রোত কমতে পারে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষিপ্রধান লালমনিরহাটে কৃষিভিত্তিক শিল্পকে কেন্দ্র করে নতুন অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। বুড়িমারী স্থলবন্দর ও রেল যোগাযোগের সুবিধায় প্রতিবেশী আঞ্চলিক বাজারে রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বরগুনা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে পায়রা বন্দরের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিমুখী শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে পিরোজপুরে সড়ক ও নৌসংযোগের সুবিধা ব্যবহার করে কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গাজীপুরে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা শিল্পকারখানাগুলোকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে এনে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পরিবেশগত চাপ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি সূত্র এখনো নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের সংখ্যা প্রকাশ না করলেও চলমান বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রবাহের উদাহরণ সামনে এসেছে। বিশেষ করে মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এবং ১৫টি কারখানার উৎপাদনে যাওয়া এই খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ৫টি অঞ্চলসহ চলমান প্রকল্পগুলো পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে আগামী কয়েক বছরে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু অঞ্চল ঘোষণা করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। গ্যাস, বিদ্যুৎ, রেল, বন্দর ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হলে রাজধানীর ওপর চাপ কমবে, আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস পাবে এবং বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উৎপাদন ও রপ্তানিকেন্দ্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।