বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নের ধারায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আক্রমণ ও নজরদারি সক্ষমতার নতুন ড্রোন “কেএক্স–২” যুক্ত হওয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, নকশা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ভিত্তিতে তৈরি এই মানববিহীন উড়োজাহাজ দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরতার নতুন দিক উন্মোচন করেছে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের মত। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেএক্স–২ একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি ও সীমিত আঘাত পরিচালনায় সক্ষম একটি দ্বৈত–ভূমিকার কৌশলগত মানববিহীন উড়োজাহাজ। এতে উন্নত তড়িৎ–অপটিক ও অবলোহিতভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দিন ও রাত উভয় সময়েই কার্যকর নজরদারি পরিচালনা সম্ভব। পাশাপাশি এতে ৬০ মিলিমিটার ও ৮২ মিলিমিটার মর্টার গোলা অথবা হালকা নির্দেশিত ক্ষুদ্র আঘাতকারী অস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এর সফল পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়। কেএক্স–২–এর সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ওজন প্রায় ১২৫ কেজি এবং এটি একটানা প্রায় ৪ ঘণ্টা আকাশে অবস্থান করতে পারে। ঘণ্টায় প্রায় ২২০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম এই উড়োজাহাজ সীমান্ত পর্যবেক্ষণ, উপকূলীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত অভিযান এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নের মতো কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর দেশীয়করণ। ড্রোনটির নকশা, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পরিচালন সফটওয়্যার এবং কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়ায় বিদেশি প্রযুক্তিনির্ভরতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে সমমানের ব্যবস্থা সংগ্রহের তুলনায় এই উদ্যোগে প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় কমানো যেতে পারে।
একই সময়ে দেশে মানববিহীন উড়োজাহাজ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বড় উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও চীনের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরভিত্তিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় দেশে উৎপাদন ও সংযোজন কেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, কেএক্স–২ এই বৃহত্তর প্রতিরক্ষা শিল্প উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রাথমিক হলেও তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ। ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী উড্ডয়ন সক্ষম এবং অধিক বহনক্ষম আক্রমণধর্মী মানববিহীন উড়োজাহাজ তৈরির পথও এ উদ্যোগের মাধ্যমে উন্মুক্ত হতে পারে। সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, সমুদ্রসীমা পর্যবেক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এই সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করতে পারে।
