দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার ঘটনাটি দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। গত ১৪ জুন, ২০২৬ রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লির বিমানবন্দরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই কূটনৈতিক বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সরকার এরই মধ্যে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছে।
সূত্র অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপদস্থ এই উপদেষ্টার ভারত সফর সম্পর্কে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক প্রটোকল ও পূর্বানুমোদন থাকা সত্ত্বেও দিল্লির ইমিগ্রেশন বিভাগ তাকে প্রবেশে বাধা দেয় এবং দীর্ঘ সময় আটকে রাখে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, তাকে আটকে রাখার পেছনে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট বা স্পষ্ট কারণ দর্শানো হয়নি, যা ঢাকাকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত করেছে। বাংলাদেশ সরকারের নীতিনির্ধারকরা এই আচরণকে অত্যন্ত 'রহস্যজনক' এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন।
পরবর্তীতে ভারতের উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ হস্তক্ষেপ ও জরুরি নির্দেশনার পর তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও ততক্ষণে এক দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমন অপমানজনক ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান আর দিল্লিতে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ভারতের মাটিতে পা না রেখে বিকল্প রুটে শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার বিদ্যমান নিবিড় ও বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে একজন শীর্ষস্থানীয় সরকারি প্রতিনিধির সাথে এমন আচরণ অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন। এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার প্রটোকল ও পারস্পরিক যোগাযোগের দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে, যার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জানা জরুরি। বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত হাতে পাওয়ার পর কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। দুই দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি একটি বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
