অর্থনীতিMay 9, 2026Newsroom

জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, বাড়ছে কৃষি ও উৎপাদনের গতি

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|অর্থনীতি

জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও এপ্রিলে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি বেড়েছে। কৃষি ও উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে।

শেয়ার করুন:
জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, বাড়ছে কৃষি ও উৎপাদনের গতি

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার চাপের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি এপ্রিলে সামান্য হলেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখিয়েছে। সর্বশেষ অর্থনৈতিক সূচক অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণমুখী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে কৃষি ও উৎপাদন খাতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ব্যবসায়ী সংগঠন মহানগর বাণিজ্য পরিষদ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান নীতিবিনিময় বাংলাদেশের যৌথ জরিপে প্রকাশিত ক্রয়ব্যবস্থাপক সূচকে দেখা গেছে, এপ্রিলে দেশের অর্থনৈতিক সূচক বেড়ে ৫৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। আগের মাসে এই সূচক ছিল ৫৩ দশমিক ৫। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে সাধারণভাবে ৫০-এর বেশি মানকে সম্প্রসারণ এবং ৫০-এর নিচে মানকে সংকোচন হিসেবে ধরা হয়। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অগ্রগতি দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এপ্রিল মাসে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে কৃষি ব্যবসা খাতে। টানা অষ্টম মাসের মতো এই খাত সম্প্রসারণ ধরে রেখেছে এবং সূচক বেড়ে ৭০ দশমিক ৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। কৃষিপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির কারণে এই খাতে প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হয়েছে। একইসঙ্গে উৎপাদন খাতও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মার্চ মাসে সাময়িক সংকোচনে পড়লেও এপ্রিলে উৎপাদন খাতের সূচক বেড়ে ৫৬ দশমিক ৯ হয়েছে। কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি, কাঁচামাল ক্রয় এবং নতুন রপ্তানি আদেশ বৃদ্ধির ফলে এই খাতে নতুন গতি ফিরে এসেছে।

তবে নির্মাণ খাত এখনো চাপে রয়েছে। এপ্রিলে এই খাতের সূচক ৪৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে অবস্থান করেছে, যা সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে সেবা খাতেও আগের তুলনায় প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। তবুও কৃষি ও উৎপাদন খাতের শক্ত অবস্থান সামগ্রিক অর্থনীতিকে ভারসাম্যে রাখতে সহায়তা করেছে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ থাকা সত্ত্বেও দেশের উদ্যোক্তারা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা দেখাচ্ছেন। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি কার্যক্রম বৃদ্ধি ব্যবসায়িক আস্থাকে স্থিতিশীল রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গেলে আগামী মাসগুলোতে অর্থনীতির গতি আরও শক্তিশালী হতে পারে।

সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির এই ইতিবাচক ধারা সাধারণ মানুষের জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করছে।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।