জাতীয়Jun 17, 20264 min read

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশের বড় কৌশলগত পদক্ষেপ

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৪১৮৯ কোটি টাকার চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল অনুমোদন দিয়েছে একনেক, যা বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শেয়ার করুন:
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশের বড় কৌশলগত পদক্ষেপ

ভারতের কৌশলগত সংবেদনশীলতা ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার আলোচনার মধ্যেই ১৬ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ–চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চীন সফরের আগে এ ধরনের অনুমোদন কেবল অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিনের আলোচনার পর অনুমোদিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একটি বৃহৎ শিল্প ও বিনিয়োগ কেন্দ্র গড়ে উঠবে, যেখানে চীনা ও অন্যান্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিল্প অবকাঠামো নিশ্চিত করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় ভূমি উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সংযোগ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শিল্প উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। সরকারের প্রত্যাশা, এই অঞ্চল চালু হলে বিপুল পরিমাণ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে উৎপাদনমুখী শিল্প সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়বে এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিল্পায়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো, জ্বালানি, যোগাযোগ ও শিল্প খাতে বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে পরিবর্তন এবং উৎপাদন ব্যয় পুনর্বিন্যাসের কারণে চীনের অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজছে। শ্রমশক্তির প্রাপ্যতা, ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রবন্দর সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকারের কারণে বাংলাদেশ এখন সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলকে দুই দেশের শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চলে পরিণত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানিমুখী শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।