রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ভয়াবহ পানির সংকট দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় জনজীবনকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এবং নদী–নালা ও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ার কারণে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। ফলে উপজেলার অধিকাংশ হস্তচালিত নলকূপ থেকে পানি উঠছে না। একসময় সহজলভ্য পানি এখন মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোর থেকে অনেককে দূরদূরান্তে পানি সংগ্রহের জন্য ছুটতে হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, একসময় এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত নদীও গত কয়েক বছরে স্থান পরিবর্তন করায় পানির প্রাকৃতিক উৎস আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে যেসব বাড়িতে গভীর নলকূপ রয়েছে, সেখানেও আশপাশের মানুষ পানি নিতে ভিড় করছে। এতে সামাজিক চাপ ও দৈনন্দিন কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে শুধু গৃহস্থালি জীবন নয়, কৃষি কাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সেচের অভাবে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের মাঠ শুকিয়ে যাচ্ছে, যা কৃষকদের ভবিষ্যৎ আয়ের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তীব্র গরমে পানিশূন্যতা ও রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানির অভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় পুরনো নলকূপের গভীরতা বাড়িয়ে সাময়িকভাবে পানি তোলার চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ হলো দীর্ঘমেয়াদি বৃষ্টিপাতের ঘাটতি এবং অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উপজেলার আড়ানী ও বাঘা পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হলেও তা এখনো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। এতে জনমনে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহল মনে করেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, খাল ও পুকুর পুনঃখনন, ভূগর্ভস্থ পানির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং বিকল্প পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে পানির অপচয় রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও গুরুত্বপূর্ণ। না হলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও গভীর হয়ে পুরো অঞ্চলের জীবন ও অর্থনীতিকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
