ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে মুসলিম বিশ্বে তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি এক সাক্ষাৎকারে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অংশের ওপর ইসরায়েলের ‘বাইবেলে বর্ণিত অধিকার’ থাকার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ইসরায়েল যদি ঐতিহাসিক-ধর্মীয় দাবির ভিত্তিতে আরও ভূখণ্ড গ্রহণ করে, তবে তা ‘দারুণ’ হবে। রক্ষণশীল মার্কিন উপস্থাপক Tucker Carlson-এর সঙ্গে আলোচনায় বাইবেলের ‘জেনেসিস’ (আদিপুস্তক) উদ্ধৃত করে ফোরাত থেকে নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের প্রসঙ্গ ওঠে। যদিও পরে হাকাবি তার বক্তব্যকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান সীমানা পরিবর্তনের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন নেই—তবু তার মন্তব্যকে অনেকেই ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখছেন।
হাকাবি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েল যে ভূখণ্ড দখল করে সেখানে বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক মহলের বড় অংশ অবৈধ মনে করে; ফিলিস্তিনিরা এসব অঞ্চলকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে। এ প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
সৌদি আরব, মিসর, জর্ডান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়াসহ একাধিক মুসলিম দেশ যৌথ বিবৃতিতে এ বক্তব্যকে “বিপজ্জনক ও উসকানিমূলক” আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। আঞ্চলিক সংগঠন Organization of Islamic Cooperation (ওআইসি), Arab League এবং Gulf Cooperation Council (জিসিসি)-ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
মার্কিন দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নীতির প্রতিফলন নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিকের মন্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং ইতিমধ্যে অস্থির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
