আন্তর্জাতিকFeb 22, 20263 min read

ইসরায়েলের ‘সম্প্রসারণবাদ’ সমর্থনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ফ্যাক্ট লেন্স ডেস্ক|আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের ‘বাইবেলে বর্ণিত অধিকার’ নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক দেশ ও আঞ্চলিক সংগঠন এ বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী ও উসকানিমূলক বলে নিন্দা জানিয়েছে।

শেয়ার করুন:
ইসরায়েলের ‘সম্প্রসারণবাদ’ সমর্থনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে মুসলিম বিশ্বে তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি এক সাক্ষাৎকারে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অংশের ওপর ইসরায়েলের ‘বাইবেলে বর্ণিত অধিকার’ থাকার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ইসরায়েল যদি ঐতিহাসিক-ধর্মীয় দাবির ভিত্তিতে আরও ভূখণ্ড গ্রহণ করে, তবে তা ‘দারুণ’ হবে। রক্ষণশীল মার্কিন উপস্থাপক Tucker Carlson-এর সঙ্গে আলোচনায় বাইবেলের ‘জেনেসিস’ (আদিপুস্তক) উদ্ধৃত করে ফোরাত থেকে নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের প্রসঙ্গ ওঠে। যদিও পরে হাকাবি তার বক্তব্যকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান সীমানা পরিবর্তনের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন নেই—তবু তার মন্তব্যকে অনেকেই ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখছেন।

হাকাবি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েল যে ভূখণ্ড দখল করে সেখানে বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক মহলের বড় অংশ অবৈধ মনে করে; ফিলিস্তিনিরা এসব অঞ্চলকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে। এ প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

সৌদি আরব, মিসর, জর্ডান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়াসহ একাধিক মুসলিম দেশ যৌথ বিবৃতিতে এ বক্তব্যকে “বিপজ্জনক ও উসকানিমূলক” আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। আঞ্চলিক সংগঠন Organization of Islamic Cooperation (ওআইসি), Arab League এবং Gulf Cooperation Council (জিসিসি)-ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মার্কিন দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নীতির প্রতিফলন নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিকের মন্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং ইতিমধ্যে অস্থির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

ইউক্রেন ল্যাব নিয়ে জৈব অস্ত্র অভিযোগে তীব্র বিতর্ক

ইউক্রেনের মার্কিন অর্থায়িত ল্যাবগুলো নিয়ে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা জৈব অস্ত্র গবেষণার অভিযোগ করেছেন। দাবি অনুযায়ী রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য জৈবিক লক্ষ্যবস্তু তৈরির ইঙ্গিত রয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিতে ৬ বিলিয়ন ডলার ঝুঁকি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার জব্দকৃত ৬ বিলিয়ন ডলার ইরানি সম্পদ মানবিক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত চুক্তি আলোচনায় উৎসাহ দিতে পারে। তবে ইরান এখনো সম্মতি দেয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার অস্ত্র রপ্তানি বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য বদলাচ্ছে

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়া অস্ত্র রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বে নবম স্থানে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় বাজারে এর প্রভাব বাড়ছে।

হরমুজ নির্ভরতা কমাতে আমিরাতের কৌশলগত পদক্ষেপ

সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা শূন্যে নামাতে বন্দর, পাইপলাইন ও রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে।