আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং বিভিন্ন দেশের আকাশসীমায় নতুন বিধিনিষেধের কারণে বৈশ্বিক বিমান চলাচল খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এরই প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের বিমান যোগাযোগেও। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া ঘোষণা দিয়েছে যে, আগামী জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা–মুম্বাই সরাসরি বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে দিল্লি থেকে ঢাকা, কাঠমান্ডু, কলম্বো, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইটের সংখ্যাও কমিয়ে আনা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে বিমান জ্বালানির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং আকাশপথ ব্যবহারে পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তাদের মতে, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল করার পরিবর্তে আগাম সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং বিমান পরিচালনায় স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট কেবল একটি বিমান সংস্থার অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়; বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রতিফলন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বিমান পরিচালনার ব্যয় দ্রুত বেড়ে গেছে। ফলে অনেক সংস্থাই এখন ব্যয় কমাতে ফ্লাইট সংখ্যা সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে। ঢাকা–মুম্বাই রুট দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা, চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত ভ্রমণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতগামী বহু বাংলাদেশি নাগরিক এই রুট ব্যবহার করতেন। সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় এখন তাদের বিকল্প রুটে যাতায়াত করতে হবে, যা সময় ও ব্যয় উভয়ই বাড়িয়ে দেবে। পাশাপাশি অন্যান্য বিমান সংস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ায় টিকিটের দামও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া আরও জানিয়েছে, সীমিত কার্যক্রমের মধ্যেও তারা প্রতি মাসে এক হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা চালিয়ে যাবে। তবে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন রুটেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। দিল্লি–শিকাগো রুট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সান ফ্রান্সিসকো ও টরন্টোগামী ফ্লাইটের সংখ্যাও কমানো হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সংকটটি কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো আন্তর্জাতিক বিমান খাতই বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষকে আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ভ্রমণ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। তাই যাত্রীদের এখন আগাম পরিকল্পনা করে ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া এবং বিকল্প ব্যবস্থার প্রতি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা জরুরি।
