স্বাস্থ্যJun 5, 20264 min read

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিনের মানবদেহে পরীক্ষা, মহামারি প্রতিরোধে নতুন আশার আলো

স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান ডেস্কস্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান|স্বাস্থ্য

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক নতুন ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষা করেছেন, যা ভবিষ্যৎ মহামারি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। প্রাথমিক ধাপে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই চলছে।

শেয়ার করুন:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিনের মানবদেহে পরীক্ষা, মহামারি প্রতিরোধে নতুন আশার আলো

একদল গবেষক যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এমন একটি নতুন ধরনের ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন যা ভবিষ্যতের মহামারি প্রতিরোধে যুগান্তকারী সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। গবেষকদের দাবি অনুযায়ী এটি প্রথম ভ্যাকসিন, যার মূল উপাদান সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণ ও নকশার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এবং মানুষের ওপর প্রাথমিকভাবে সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল কেবল বর্তমান ভাইরাস নয়, বরং একই পরিবারের ভবিষ্যৎ ভাইরাসগুলোর বিরুদ্ধেও সুরক্ষা প্রদান করা। এজন্য করোনাভাইরাস পরিবারের বিভিন্ন ধরনের জিনগত তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হয় এবং সেই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি বিশেষ “সুপার অ্যান্টিজেন” তৈরি করা হয়, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ভাইরাস শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্ষম করে। এই ভ্যাকসিন শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রস্তুত করে যাতে ভাইরাস পরিবর্তিত হলেও বা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে নতুনভাবে ছড়ালেও শরীর দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। গবেষণার প্রথম ধাপে তিরিশ নয়জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হয় এবং দ্বিতীয় ধাপে প্রায় দুইশ জনের ওপর কার্যকারিতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফলে প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া মাঝারি হলেও গবেষকরা একে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন। গবেষণাটি সংক্রমণ বিষয়ক একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে এমন একটি সার্বজনীন ফ্লু ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব হতে পারে যা প্রতিবছর নতুন করে হালনাগাদের প্রয়োজন হবে না। পাশাপাশি পাখিদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বার্ড ফ্লু এবং প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে এমন ভাইরাসের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজ চলছে। এমনকি ইবোলা ভাইরাসসহ অন্যান্য মারাত্মক ভাইরাল রোগের বিরুদ্ধেও ভ্যাকসিন তৈরির গবেষণা চলছে, যেখানে এখনো অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদিত ভ্যাকসিন সীমিত। গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন তৈরির ধরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে, কারণ এতে ভাইরাসের আচরণ আগে থেকেই অনুমান করা যায় এবং দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধ তৈরি করা সম্ভব হয়, ফলে সময় ও খরচ দুইই কমে আসে এবং মানবজাতি সম্ভাব্য মহামারির জন্য আরও প্রস্তুত হতে পারে। বিজ্ঞানীরা এটিকে ভাইরাস প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা তৈরির ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন এবং আশা করছেন ভবিষ্যতে এর সফল প্রয়োগ হলে কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। এই গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে একটি সম্ভাব্য বৈপ্লবিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। যদি পরবর্তী ধাপগুলোতে আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রমাণিত হয়, তবে ভবিষ্যতে নতুন ভাইরাস ছড়ানোর আগেই সেগুলোর জন্য ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা সম্ভব হবে, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। এটি মানবজাতিকে ভবিষ্যতের অজানা মহামারির বিরুদ্ধে আরও আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দেবে। ফলে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং মহামারি ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।