আফগানিস্তানে নারীদের শিক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্কের মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক সমাপনী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি কাবুলে ইসলামিক আমিরাতের অধীনে ইসলামী বিজ্ঞানে অধ্যয়ন সম্পন্নকারী কয়েক ডজন নারী শিক্ষার্থীর জন্য একটি স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শুধুমাত্র নারীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করা হয় এবং তাদের শিক্ষা ও একাডেমিক অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এসব শিক্ষার্থী কোরআন, হাদিস, তাফসির, ফিকহ এবং অন্যান্য ধর্মীয় বিষয়ে নির্ধারিত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা, সামাজিক দায়িত্ব পালন এবং শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। আফগান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে নারী শিক্ষার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে—এমন ধারণা বাস্তবতার সম্পূর্ণ প্রতিফলন নয়। তাদের দাবি, ধর্মীয় শিক্ষা, কোরআন শিক্ষা, নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ এবং কিছু কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম এখনো চালু রয়েছে এবং সেখানে নারীদের অংশগ্রহণ অব্যাহত আছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের কার্যক্রমের আরও উদাহরণ দেখা গেছে। গত বছর কাবুলের একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৫০ নারী শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করেন। তাদের মধ্যে ৫৪ জন হাফেজা হিসেবে স্বীকৃতি পান, ৮৬ জন উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা বিভাগে তাফসির ও অনুবাদ বিষয় সম্পন্ন করেন এবং অন্যরা কোরআন তিলাওয়াত ও তাজবিদ বিভাগে উত্তীর্ণ হন। একইভাবে চলতি বছরে স্বাস্থ্য খাতের একটি সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্বীকৃতি লাভ করেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৯০ জন নারী প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
তবে আফগানিস্তানে নারী শিক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমালোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন পশ্চিমা রাষ্ট্র ও মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করে যে মাধ্যমিক শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নারীদের প্রবেশাধিকারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং উচ্চশিক্ষায় নানা বাধা বিদ্যমান। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে নারী চিকিৎসা স্নাতকদের পেশাগত অনুমোদন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানে নারী শিক্ষার বাস্তবতা একমাত্রিক নয়; একদিকে কিছু শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ ও উচ্চশিক্ষায় সীমাবদ্ধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক অব্যাহত আছে। ফলে দেশটির শিক্ষা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে হলে বিদ্যমান সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা—উভয় দিকই বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।