আন্তর্জাতিকMay 24, 20263 min read

জোরপূর্বক ও শিশুবিবাহ বিষয়ে ইসলামিক ইমারাতের অবস্থান ও শরিয়াহভিত্তিক আইনি ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

আফগানিস্তানে জোরপূর্বক ও শিশুবিবাহ নিয়ে বিতর্কের জবাবে ইসলামিক ইমারাত তাদের শরিয়াহভিত্তিক অবস্থান ও নারীর সম্মতি বিষয়ক নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

শেয়ার করুন:
জোরপূর্বক ও শিশুবিবাহ বিষয়ে ইসলামিক ইমারাতের অবস্থান ও শরিয়াহভিত্তিক আইনি ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক মহলে আফগানিস্তানের ইসলামিক ইমারাত সরকারের শিশু বিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ে বিষয়ক অবস্থান নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে সরকার তাদের নীতি ও ব্যাখ্যা পুনরায় স্পষ্ট করেছে। সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, ইসলামিক ইমারাতের নীতিমালায় কোনো নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া বৈধ নয় এবং এমন ঘটনা প্রমাণিত হলে ইসলামী আদালত সেই বিয়ে বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার জারি করা ফরমান অনুযায়ী নারীর স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া বিয়ে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। সরকারের দাবি অনুযায়ী, তারা ইতোমধ্যেই বহু জোরপূর্বক বিয়ে প্রতিরোধ করেছে এবং পারিবারিক চাপ ও নির্যাতনের শিকার অনেক নারীকে সুরক্ষা দিয়েছে। শিশু বিবাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্করা পূর্ণ সচেতন সম্মতি দিতে সক্ষম নয়, তাই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে দেওয়াকে তারা নীতিগতভাবে সমর্থন করে না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে “শিশুবিবাহ বৈধ করা হয়েছে” বলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা তিনি বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন। তাঁর ব্যাখ্যায় বলা হয়, বিষয়টি ইসলামী আইনশাস্ত্রের একটি প্রাচীন ও সীমিত আইনি ব্যাখ্যার ভুল উপস্থাপন।

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী কিছু বিশেষ ও বিরল পরিস্থিতিতে অভিভাবক অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের বিয়ের প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন করতে পারেন, তবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সেই ব্যক্তি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে। এই অধিকারকে বয়ঃপ্রাপ্তির পর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সে চাইলে বিয়ে বহাল রাখতে পারে অথবা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। যদি সে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে ইসলামী আদালত সেই বিয়ে বাতিল করে দেয় এবং তাকে স্বামীর সঙ্গে বসবাসে বাধ্য করা যায় না। অন্যদিকে, যদি সে স্বেচ্ছায় সম্মতি প্রদান করে, তাহলে দাম্পত্য সম্পর্ক আইনগতভাবে বহাল থাকে। ইসলামিক ইমারাতের দাবি, এটি নতুন কোনো আইন নয় বরং শতাব্দীপ্রাচীন ইসলামী বিচারিক ব্যাখ্যারই অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থানের মাধ্যমে আফগান প্রশাসন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শাসনব্যবস্থাকে একটি শরিয়াহভিত্তিক, নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। তারা মনে করেন, এটি মূলত কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, মেয়েদের শিক্ষা ও সামাজিক অংশগ্রহণ সীমিত থাকায় গ্রামীণ অঞ্চলে বাল্যবিয়ের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি। তবুও ইসলামিক ইমারাত দাবি করছে, তারা শরিয়াহর কাঠামোর মধ্যেই পারিবারিক ন্যায়বিচার, নারীর সম্মতি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

সম্পর্কিত খবর

ইউক্রেন ল্যাব নিয়ে জৈব অস্ত্র অভিযোগে তীব্র বিতর্ক

ইউক্রেনের মার্কিন অর্থায়িত ল্যাবগুলো নিয়ে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা জৈব অস্ত্র গবেষণার অভিযোগ করেছেন। দাবি অনুযায়ী রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য জৈবিক লক্ষ্যবস্তু তৈরির ইঙ্গিত রয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিতে ৬ বিলিয়ন ডলার ঝুঁকি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার জব্দকৃত ৬ বিলিয়ন ডলার ইরানি সম্পদ মানবিক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত চুক্তি আলোচনায় উৎসাহ দিতে পারে। তবে ইরান এখনো সম্মতি দেয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার অস্ত্র রপ্তানি বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য বদলাচ্ছে

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়া অস্ত্র রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বে নবম স্থানে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় বাজারে এর প্রভাব বাড়ছে।

হরমুজ নির্ভরতা কমাতে আমিরাতের কৌশলগত পদক্ষেপ

সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা শূন্যে নামাতে বন্দর, পাইপলাইন ও রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে।