পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, ঘন বন এবং সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এসব এলাকায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর অতর্কিত হামলা, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং গোপন আস্তানা গড়ে তোলার মতো ঘটনাগুলো নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ড্রোন এখন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং নির্ভুল অভিযান পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর নজরদারি সক্ষমতা বাড়াতে তুরস্কে নির্মিত “বাইরাকতার টিবি টু” ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা একটানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম। এতে উন্নত ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর, ইনফ্রারেড ক্যামেরা এবং নির্ভুল লক্ষ্য শনাক্তকরণ প্রযুক্তি রয়েছে, যা পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি নজরদারিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত ও পাহাড়ি এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে অভিযান পরিকল্পনা আরও কার্যকর হচ্ছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ড্রোন-ঝাঁক প্রযুক্তি যুক্ত হলে একাধিক ক্ষুদ্র ড্রোন একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে নির্দিষ্ট এলাকার ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি, নজরদারি এবং লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘন বন ও পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থান দ্রুত চিহ্নিত করা সহজ হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে স্থল অভিযানের আগে রিয়েল টাইম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা সেনা সদস্যদের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য অতর্কিত হামলা বা অ্যামবুশের ঝুঁকি আগেভাগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্রোন হামলা সংক্রান্ত কিছু দাবি প্রচারিত হলেও সেগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাহিনীতে রূপান্তরিত হচ্ছে। ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নেটওয়ার্কভিত্তিক যুদ্ধব্যবস্থার ব্যবহার ভবিষ্যতে সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং কৌশলগত নজরদারিকে আরও শক্তিশালী করবে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
