মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার আওতায় কাতারে আটকে থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিলে সীমিত প্রবেশাধিকার পাওয়ার পথে এগোচ্ছে ইরান। তবে এই অর্থ সরাসরি তেহরানের হাতে হস্তান্তর করা হবে না; বরং কঠোর শর্ত, আন্তর্জাতিক তদারকি এবং নির্ধারিত ব্যবহার কাঠামোর অধীনে ধাপে ধাপে ব্যয় করার সুযোগ দেওয়া হবে। এই তহবিল মূলত দক্ষিণ কোরিয়ায় সংরক্ষিত ইরানের তেল বিক্রির আয়, যা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যবহারের বাইরে ছিল। পরে ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অর্থটি কাতারের ব্যাংক ব্যবস্থায় স্থানান্তর করা হয়, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক জটিলতার কারণে বাস্তবে ইরান তা ব্যবহার করতে পারেনি।
নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, পুরো অর্থ একবারে অবমুক্ত করা হবে না। বরং ৬০ দিনের একটি অন্তর্বর্তী কূটনৈতিক সময়সীমার মধ্যে আলোচনা কতটা এগোয়, সমঝোতার শর্ত কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা কতটা বজায় থাকে—এসব বিষয়ে অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক ও নিষেধাজ্ঞামুক্ত খাতে ব্যয় করা যাবে। এর মধ্যে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং সাধারণ জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অর্থ ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সরকারি বাজেটে সরাসরি যুক্ত হবে না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই তহবিল উন্মুক্ত করার মাধ্যমে ওয়াশিংটন আলোচনাকে সক্রিয় রাখার একটি প্রণোদনামূলক কাঠামো তৈরি করতে চাইছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের মতো বড় বিষয়গুলোতেও ইরানকে আলোচনায় ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। মার্কিন পক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে, সমঝোতার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে আরও আর্থিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে বিষয়টি নিয়ে মতভেদও রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, অবরুদ্ধ অর্থ আংশিক উন্মুক্ত হলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমে যেতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, অর্থ সরাসরি নগদ হিসেবে নয় এবং শুধুমাত্র মানবিক খাতে ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা থাকায় এটি রাজনৈতিক সমঝোতার একটি বাস্তবধর্মী পদ্ধতি। বিশ্লেষকদের মতে, ৬ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিল শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং বৃহত্তর কূটনৈতিক সম্পর্ক, জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক সমঝোতার গতিপথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
