সংবিধান সংস্কার পরিষদে দ্বিতীয়বার শপথ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের পেছনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা। তিনি মনে করেন, বর্তমান সংবিধানের অধীনে প্রথম শপথ নেওয়ার পর আবার শপথ নেওয়া আইনগতভাবে অসঙ্গত।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জার্মানিভিত্তিক গণমাধ্যম Deutsche Welle (ডয়েচে ভেলে)-এর বাংলা টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, সরকার যেহেতু শুরু থেকেই বিদ্যমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তাই সেই সংবিধানের ভিত্তিতেই শপথ গ্রহণ করা হয়েছে। তার মতে, যদি শুরুতেই সরকার সংবিধানকে অগ্রাহ্য করে নতুন কাঠামোর ঘোষণা দিত, তাহলে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার একটি বৈধ ভিত্তি তৈরি হতো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের আওতায় প্রথম শপথ নেওয়ার পর দ্বিতীয়বার শপথ নিলে পূর্বের শপথের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তার ভাষায়, এতে প্রথম শপথ কার্যত অর্থহীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
আলোচনায় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন প্রক্রিয়াও তুলে ধরেন। তার দাবি, সংবিধানের বিধান অনুসারে এই প্রক্রিয়া কতটা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট কিছু বিচারকের পদত্যাগ প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মত ও ব্যাখ্যা রয়েছে।
ভবিষ্যতে এই ইস্যু নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখে অনেক ক্ষেত্রেই “যা হয়ে গেছে, তা মেনে নেওয়া” নীতি অনুসরণ করা হয়, কারণ অতীতের ঘটনাকে ফিরে গিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, তার এই বক্তব্য সংবিধান, শপথ প্রক্রিয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
