মিয়ানমারের সম্ভাব্য দেশীয় সাবমেরিন নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সামরিক বিষয়ভিত্তিক গবেষণা প্রকাশনার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে মিয়ানমারের একটি নির্মাণাধীন আক্রমণাত্মক সাবমেরিনের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাবমেরিনটির নকশাগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার স্যাং–ও শ্রেণির সাবমেরিনের উল্লেখযোগ্য মিল দেখা যাচ্ছে, যা সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্মাণাধীন প্ল্যাটফর্মটির সম্ভাব্য দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ মিটার এবং এর স্থানচ্যুতি ৫০০ টনের কম হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ডিজেল–বিদ্যুৎচালিত একটি সামরিক নৌযান হতে পারে, যা উপকূলীয় নজরদারি, বিশেষ অভিযান এবং টর্পেডোভিত্তিক আক্রমণ পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। যদিও এসব তথ্য এখনো উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক বিশ্লেষণের পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
মিয়ানমার বা উত্তর কোরিয়া—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এ ধরনের সহযোগিতার বিষয়ে প্রকাশ্য স্বীকৃতি দেয়নি। তবে অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রযুক্তি সম্পর্কিত যোগাযোগের অভিযোগ উঠে এসেছে। সেই পটভূমিতে নতুন এই স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
মিয়ানমার ইতোমধ্যে বিদেশে নির্মিত ২টি সাবমেরিন পরিচালনা করছে। এর মধ্যে একটি ভারত থেকে এবং অন্যটি চীনের সহায়তায় সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে দেশীয়ভাবে নির্মিত সাবমেরিন এখনো তাদের নৌবহরে যুক্ত হওয়ার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। একই সময়ে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগও জোরদার করেছে এবং নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভবিষ্যতে মিয়ানমার নিজস্ব প্রযুক্তি বা বহিরাগত সহায়তায় কার্যকর সাবমেরিন নির্মাণে সফল হয়, তাহলে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় নিরাপত্তা, নৌ কৌশল এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় প্রতিবেশী দেশগুলোর নজর আরও বাড়তে পারে। তবে বর্তমানে আলোচিত তথ্যের বড় অংশই স্যাটেলাইট চিত্র ও উন্মুক্ত গোয়েন্দা বিশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিষয়টি স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই হওয়া এখনো বাকি রয়েছে।
