স্থানীয়Apr 22, 20263 min read

মেঘনায় ভয়াবহ ট্রলারডুবি: বিপুল মালামাল পানির নিচে তলিয়ে গেল

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|স্থানীয়

ভোলার তজুমদ্দিন-মনপুরা নৌরুটে মেঘনা নদীতে পণ্যবোঝাই ট্রলার ডুবে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল তলিয়ে যায়। প্রবল স্রোত ও নাব্য সংকটকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:
  মেঘনায় ভয়াবহ ট্রলারডুবি: বিপুল মালামাল পানির নিচে তলিয়ে গেল

ভোলার তজুমদ্দিন-মনপুরা নৌরুটে মেঘনা নদীতে পণ্যবোঝাই একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় বিপুল পরিমাণ মালামাল পানিতে তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তজুমদ্দিন থেকে মনপুরার হাজিরহাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রলারটি চৌমুহনী লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় প্রবল স্রোত, লঞ্চের তীব্র ঢেউ এবং নাব্য সংকটের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নদীতে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া ডুবোচরের সাথে ধাক্কা লাগার পর ট্রলারটির তলা ফেটে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই সেটি মেঘনার গভীর পানিতে ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা যাত্রী ও মাঝিমাল্লারা দ্রুত সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, বিপুল পরিমাণ পণ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য রাখা শত শত রুটি, বিপুল পরিমাণ মুরগির খাদ্য, চাউল, ভোজ্যতেলসহ ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের পণ্য নদীতে তলিয়ে যায়। স্থানীয় মাঝিদের দাবি অনুযায়ী, এতে প্রায় বিশ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও ব্যবসায়ীদের মোট ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডুবে যাওয়ার পরদিন বুধবার সকালে আংশিকভাবে ট্রলার ও কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অধিকাংশ পণ্য এখনো পানির নিচে রয়েছে। উদ্ধার কাজে স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নিলেও প্রবল স্রোত এবং গভীর পানির কারণে সম্পূর্ণ উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ঘটনা থেকে প্রাণহানি না ঘটলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন, কারণ এই পণ্যের ওপর তাদের জীবিকা নির্ভরশীল ছিল।

নৌপথ ব্যবহারকারী স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের মতে, মেঘনা নদীর বিভিন্ন অংশে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় নৌযান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিয়মিত খনন কার্যক্রমের অভাব, পর্যাপ্ত সতর্ক সংকেত না থাকা এবং অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রলার চলাচল এই ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নৌপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও প্রশাসনের টিম পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নৌপথের নিরাপত্তা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

সম্পর্কিত খবর

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইরান চুক্তিতে ইসরায়েলের কৌশলগত ধাক্কা?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার পর ইসরায়েলে রাজনৈতিক বিতর্ক ও উদ্বেগ বেড়েছে। অনেক নাগরিক চুক্তিটিকে নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।